রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৪:০০ অপরাহ্ন
প্রচারণায় নানা চমক দেখানোর পর আজ প্রেক্ষাগৃহে আসছে জনপ্রিয় নির্মাতা রায়হান রাফির সিনেমা ‘দামাল’। ‘স্বাধীনবাংলা ফুটবল দল’ নিয়ে প্রথম ছবি ‘দামাল’। পরিচালকের আগের ছবি ‘পরাণ’-এর মতো ‘দামাল’ও মন কেড়ে নেবে দর্শকের, মনে করছেন ছবির কলাকুশলীরা।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের জুনে গড়ে ওঠে স্বাধীনবাংলা ফুটবল দল। দলটি বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৬টি ম্যাচে অংশ নেয়। সেখান থেকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়, যার পুরোটাই মুক্তিযুদ্ধের তহবিল গঠনের জন্য দান করা হয়েছিল। সেই গল্পের অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়েছে চলচ্চিত্র ‘দামাল’। বায়োগ্রাফি বা হুবহু গল্প নয়, ইতিহাস থেকে ‘গল্পের রস’ নিয়ে স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলকে উৎসর্গ করে ‘দামাল’ নির্মাণ করার কথা বললেন পরিচালক রায়হান রাফি। ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত ছবিটির মূল গল্প ফরিদুর রেজা সাগরের। রাফির সঙ্গে যৌথভাবে চিত্রনাট্য সাজিয়েছেন নাজিম উদ দৌলা। ২০১৮ সালে রায়হান রাফিকে ডেকে গল্পটি শোনান ফরিদুর রেজা সাগর। ছবিটি করতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি রাফি। সঙ্গে সঙ্গে শুরু করলেন নির্মাণ প্রস্তুতি। নির্মাতা রাফি বলেন, ‘আমরা স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করেছি। ওই সময় জার্সি কেমন ছিল, ফুটবলটা কেমন ছিল, এগুলো খুঁজেছি। কিন্তু কষ্টের জায়গা হলো, অনেক কিছুই নেই বাংলাদেশে। আমরা খুঁজেছিলাম ওই পতাকাটা, যেটা ওড়ানো হয়েছিল, কিন্তু পাইনি। প্রায় দুই বছর এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেছি।’
ছবির শ্যুটিং শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। নানা প্রতিবন্ধকতা পাশ কাটিয়ে অবশেষে সেই ছবি মুক্তির দোরগোড়ায়। ছবিতে প্রথমেই চুক্তিবদ্ধ হন সিয়াম আহমেদ। এই পরিচালকের ‘পোড়ামন ২’, ‘দহন’, ‘টান’- এর মতো প্রশংসিত ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। সিয়াম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আবহটা তৈরির জন্য কোথায় শ্যুটিং হবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা এমন একটা জায়গা বেছে নিয়েছি, যে জায়গাটা মুক্তিযুদ্ধের এত দিন পরে এসেও আমূল বদলে যায়নি। স্বাধীনতাযুদ্ধের আগের অনেক প্রতিচ্ছবি এখনো ওখানে রয়ে গেছে। সৈয়দপুরের ওই এলাকায় এখনো গেলে পুরনো একটা আবহ পাওয়া যায়।’
ছবিতে শরীফুল রাজকে দেখা যাবে স্বাধীনবাংলা ফুটবল দলের অধিনায়কের চরিত্রে। যার নাম মুন্না। বাস্তব জীবনে ব্রাজিলের সমর্থক রাজ, পছন্দ করেন রোনালদিনহোর খেলা। ছবির শ্যুটিংয়ের আগে তিন-চার মাসের ট্রেনিং করেছেন। রাজ বলেন, ‘অনেক গরমে শ্যুট করতে হয়েছে। এমনও হয়েছে, আমাদের বুটের নিচের স্পাইক গলে যেত। প্রতিদিন মিনিমাম পাঁচ ঘণ্টা মাঠে থাকতে হতো। এমনও হয়েছে, আমরা দৌড়াচ্ছি, টেক চলছে, দম নিতে পারছিলাম না। একসময় বমি করে দিয়েছি। আমাদের টিমের সবার জন্যই এটা ফিজিক্যালি অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমার টিমের জন্য আমি খুব গর্বিত। আমরা যতটা না সাপোর্ট পেয়েছি, তার চেয়েও বেটার কিছু দর্শকের জন্য তৈরি করতে চেষ্টা করেছি।’